1. mizanurrahmanmim004@gmail.com : admin :
জামানতের শতকোটি টাকা নিয়ে শঙ্কায় ৩৫ হাজার গ্রাহক - banglarjoy71
March 13, 2026, 5:55 am
নোটিশঃ
যে কোন বিভাগে প্রতি জেলা, থানা/উপজেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘banglarjoy71.com ’ জাতীয় পত্রিকায় সাংবাদিক নিয়োগ ২০২৩ চলছে। বিগত ১ বছর ধরে ‘banglarjoy71.com’ অনলাইন সংস্করণ পাঠক সমাজে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাঠকের সংখ্যায় প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছে তরুণ, অভিজ্ঞ ও আন্তরিক সংবাদকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ‘banglarjoy71.com‘ পত্রিকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার এ ধাপ
শিরোনামঃ
গোমস্তাপুরে চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় জুলাই সনদের স্বাক্ষর ও ৩১ দফার লিফলেট বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে গোমস্তাপুরে বিএনপির আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সীমান্তের ৫৯ বিজিবি দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে সব বিবেচনাতেই  এগিয়ে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন  প্রত্যাশী আসাদুল্লাহ আহমদ ভোলাহাটে পুজা মন্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক সহযোগিতা ও সার্বিক খোঁজ খবর নেন ড.এস. এ. অপু বিজিবির ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা : অধিনায়ক ৫৯ বিজিবি গোমস্তাপুরে বিএনপির কর্মিসভা অনুষ্ঠিত  গাইবান্ধা-৫ আসনে হাতপাখার প্রার্থী আলহাজ্ব এ্যাড. আজিজুল ইসলামের গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা। গোমস্তাপুরে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক বৃদ্ধের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুস সালাম তুহিনের পক্ষে লিফলেট বিতরণ

জামানতের শতকোটি টাকা নিয়ে শঙ্কায় ৩৫ হাজার গ্রাহক

  • Update Time : Saturday, January 4, 2025
  • 205 Time View

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি অনিবন্ধিত এনজিও মালিক মাসুদ রানা আটকের পর জামানতের ১০৫ কোটি টাকা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ৩৫ হাজার গ্রাহক। এনিয়ে এখন পর্যন্ত আদালতে ৩৭২টি মামলা হলেও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কোন সুরাহা হয়নি। গ্রাহক ফোরাম জেলা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সাথে সমন্বয় করে জামানতের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া সুষ্ঠভাবে চালিয়ে গেলেও গত ৫ আগষ্ট সরকারের পতনের পর এনিয়ে আগমণ ঘঠেছে তৃতীয় পক্ষের। নানানরকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে।

জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৪৬টি শাখায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের ১০৫ কোটি টাকা আত্মসাত করে অবৈধ অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক হয় মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা। এরপর একে একে টাকা ফেরতের দাবিতে মামলা করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। পরে মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালিক মাসুদ রানা এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা মাসুদ রানার পরিবারের ১৮ জন সদস্য কারাগারে থাকলেও টাকা ফেরত পায়নি গ্রাহকরা।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারের পতনের পর মাসুদ রানা ও তার পরিবার আত্মসাতকৃত ১০৫ কোটি ফেরত না দিতে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে টালবাহানা শুরু করে। এমনকি যেকোন মূল্যে ৩৭২টি মামলায় জামিন নিয়ে বাইরে আসার পরিকল্পনা করছে তারা। অনুসন্ধানে জানা যায়, টাকা ফেরত না দিতে নানারকম ষড়যন্ত্রের খবরে আরও ১০০০ হাজার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

জানা যায়, শনিবার (০৪ জানুয়ারী) দুই পক্ষের আইনজীবী ও মাসুদ রানার প্রতিনিধিরা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে ৫০টি মামলার বাদি ও গ্রাহকের সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহ করে। এনিয়ে প্রত্যেক শনিবার মামলার বাদিদের সাক্ষাৎকার ও তথ্য গ্রহণ করে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা জানা যায়। তবে মামলার বাদি ও অন্যান্য গ্রাহকদের অভিযোগ, ৩৭২টি মামলার কার্যক্রম দীর্ঘয়িত করতেই এমন নাটক করা হচ্ছে এবং ষড়যন্ত্রের একটি নতুন কৌশল এটি।

শনিবার (০৪ জানুয়ারী) দুপুরে আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার পর মামলার বাদি টুম্পা ভট্টাচার্য জানান, আমি অনেক কষ্টে জমানো টাকা জমা দিয়েছিলাম মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থায়। কিন্তু মালিক মাসুদ রানা আটকের পর তা নিয়ে নাচোল আমলী আদালতে মামলা দায়ের করলেও কোন সুরাহা হয়নি। এখন সাক্ষাৎকারে এসে তার আইনজীবী বলছে কিছু টাকা নিয়ে জামিন দিলে হয়না? কিন্তু এতো হয়রানির পর কেন কম টাকা নিব। এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে গ্রাহকের টাকা নিয়ে।

সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের গ্রাহক তরিকুল ইসলাম বলেন, জামানতের টাকা হারিয়ে আমরা এখন পথে বসেছি ৩৫ হাজার গ্রাহক। অথচ আমাদের শতকোটি টাকা নিয়ে জেলে বসে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে মাসুদ রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা। মাসুদ রানা ও তার পরিবারের ১৮ জন সদস্য গ্রাহকের এসব টাকা নিয়ে আত্মসাত করার অপরাধে কারাগারে আছে। আমরা গত ২ বছর ধরে ৩৫ হাজার গ্রাহক ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। আদালতের নিকট আবেদন, যেভাবেই হোক আমাদেরকে এই টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করবেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক জানান, ৩৫ হাজার গ্রাহকের মধ্যে মামলা হয়েছে মাত্র ৩৭২টি। অথচ আইনজীবীরা এখন শুধুমাত্র মামলার বাদিদের সাথে বসছে এবং তাদেরকে টাকা ফেরতের কথা বলে সাক্ষাৎকার নিচ্ছে ও প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাহলে বাকি গ্রাহকরা আমরা কি করব? প্রয়োজনে আমরা ৩৫ হাজার গ্রাহকরা মামলা করব। এসব ষড়যন্ত্র করে টাকা ফেরত দিতে নানারকম টালবাহানা করছে মাসুদ রানার লোকজন।

মধুমতি গ্রাহক ফোরামের সভাপতি শ্রী রমেশ চন্দ্র বলেন, আমরা ৩৫ হাজার গ্রাহক মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার মালিক মাসুদ রানার সাথে একাধিকবার বৈঠিক করেছি এবং সেসময় মাসুদ রানা ৫০ কোটি টাকা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন নতুন করে আবার ষড়যন্ত্র ও টালবাহানা শুরু করেছে। আমরা গত ২ বছর ধরে মানববন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন আন্দোলন করেছি। প্রয়োজনে আবারো কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি বাকি গ্রাহকরা মামলা করবে।

মধুমতি গ্রাহক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মাওলা জানান, মাসুদ গং টাকা ফেরত না দিতে নানারকম টালবাহানা করছে। আমরা গ্রাহকদের শতকোটি টাকা ফেরত নিয়ে শঙ্কায় দিন যাপন করছি। স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের নিকট আবেদন, টাকা ফেরত ছাড়া যাতে কোন সীধান্ত না নেয়া হয়। কারন মাসুদ রানার লোকজন আমাদের পাশ বইসহ সকল ডকুমেন্ট নিয়ে নিলে পরবর্তীতে আমােদরকে ফেরত না দেয়াসহ নানারকম বিপদে ফেলতে পারে এই আশঙ্কায় আছি।

সদর উপজেলার কালিনগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নাইমুল হক বলেন, মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা জেলাজুড়ে ৪৬টি শাখায় অবৈধ ক্ষুদ্র ঋণের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাধারণ জনগণকে এক লাখ টাকা জমা রাখলে মাসে ১২০০ টাকা লাভ দেয়া হবে এবং জমাকৃত টাকা চাওয়া মাত্র ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে মধুমতি৷ এভাবে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১০৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। আজকাল করে টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সময় পার করে এবং টাকা না দিতে মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা স্বেচ্ছায় অস্ত্রসহ আটকের নাটক করে৷

সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের সূর্যনারায়নপুর গ্রামের স্নাতক পড়ুয়া লতিফা খাতুন বলেন, আমার কোন ভাই নাই। বাবার উপার্জনের ৬ লাখ টাকা মধুমতি এনজিও-তে জমা রেখেছিলাম। কিন্তু বাবা অসুস্থ হওয়ার পরেও এখন চিকিৎসা করার জন্য টাকা উত্তোলন করতে পারছি না। বারবার এনজিও অফিসে ঘুরেও দিব দিচ্ছি বলে না দেয়ার পায়তারা করছে। টাকার জন্য এখন অসহায় দিন যাপন করছি।

জেলা শহরের বিজয় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন জানান, জমি বিক্রি করে টাকা জমা রেখেছিলাম মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থায়। সেখান থেকে মাসে মাসে টাকা তুলে বেতন দিতাম। কিন্তু কয়েকমাস থেকে টাকা আত্মসাত করে পালিয়েছে এর মালিক পক্ষের লোকজন। এখন কলেজের বেতন দিতে পারছি না। জনগণের টাকা নিয়ে যে সমস্ত সম্পদ তৈরি করেছে, তা বিক্রি করে আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 20122 Breaking News
Design & Developed By BD IT HOST